| বঙ্গাব্দ

ছোট মাছের মজুত কমেছে ৭৮%: টেকসই ব্লু ইকোনমির জন্য বিজ্ঞানভিত্তিক সুশাসন জরুরি – উপদেষ্টা ফরিদা আখতার

রিপোর্টারের নামঃ BDS Bulbul Ahmed
  • আপডেট টাইম : 02-12-2025 ইং
  • 3291938 বার পঠিত
ছোট মাছের মজুত কমেছে ৭৮%: টেকসই ব্লু ইকোনমির জন্য বিজ্ঞানভিত্তিক সুশাসন জরুরি – উপদেষ্টা ফরিদা আখতার
ছবির ক্যাপশন: উপদেষ্টা ফরিদা আখতার

ব্লু ইকোনমি ও সামুদ্রিক মৎস্য ব্যবস্থাপনা: টেকসই উন্নয়নের পথে চ্যালেঞ্জ ও সম্ভাবনা

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা ফরিদা আখতারের মন্তব্য বিশ্লেষণ

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা ফরিদা আখতার মঙ্গলবার (২ ডিসেম্বর, ২০২৫) চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট অব মেরিন সায়েন্সেস আয়োজিত ‘মেরিন ফিশারিজ অ্যান্ড ব্লু ইনোভেশনস: সেইফগার্ডিং ওশান হারমনি’ শীর্ষক আন্তর্জাতিক সম্মেলনের দ্বিতীয় দিনে গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য প্রদান করেন। তাঁর বক্তব্যের মূল বিষয়বস্তু ছিল সামুদ্রিক সম্পদ রক্ষায় টেকসই উন্নয়ন, বিজ্ঞানভিত্তিক সিদ্ধান্ত এবং আঞ্চলিক সহযোগিতার প্রয়োজনীয়তা।

১. টেকসই উন্নয়নের জন্য জরুরি পদক্ষেপ

উপদেষ্টা ফরিদা আখতার স্বীকার করেন যে বাংলাদেশ মাছ উৎপাদনে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে। তবে এই অর্জনকে টেকসই করতে হলে নিম্নলিখিত বিষয়গুলো নিশ্চিত করা অপরিহার্য:

  • দায়িত্বশীল আহরণ: মাছ ধরার ক্ষেত্রে দায়িত্বশীল আচরণ নিশ্চিত করা।

  • প্রযুক্তিগত উদ্ভাবন: মৎস্য খাতে নতুন প্রযুক্তির ব্যবহার।

  • বিজ্ঞানভিত্তিক সিদ্ধান্ত: গবেষণালব্ধ তথ্যের ভিত্তিতে নীতি-নির্ধারণ।

  • কার্যকর সুশাসন: মৎস্য খাতে স্বচ্ছ ও কার্যকর ব্যবস্থাপনা।

২. ব্লু ইকোনমি ও সমন্বয়ের গুরুত্ব

ব্লু ইকোনমিকে জাতীয় অগ্রাধিকার হিসেবে চিহ্নিত করায় তিনি সন্তোষ প্রকাশ করেন এবং একটি টেকসই সামুদ্রিক ভবিষ্যৎ গড়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে বলে উল্লেখ করেন। এর জন্য বিজ্ঞান-নীতি-কমিউনিটি ডেভেলপমেন্ট এই ত্রিমুখী সমন্বয়ের ওপর জোর দেন।

৩. সামুদ্রিক বাস্তুতন্ত্রের মারাত্মক সংকেত

উপদেষ্টা তাঁর বক্তব্যে বঙ্গোপসাগরের বাস্তুতন্ত্রে (Ecosystem) দ্রুত হস্তক্ষেপের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন, যার প্রধান কারণগুলি হলো:

  • ছোট পেলাজিক মাছের হ্রাস: গত ৭ বছরে এই মজুত ৭৮.৬ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে। এটি ১ লাখ ৫৮ হাজার টন থেকে কমে ৩৩ হাজার ৮১১ টনে নেমে এসেছে।

  • জেলিফিশের আধিক্য: বড় শিকারি মাছ কমে যাওয়ায় জেলিফিশের সংখ্যা দ্রুত বাড়ছে, যা পরিবেশগত ভারসাম্যের জন্য বিপজ্জনক সংকেত

  • ইলিশের হুমকি: জাতীয় ও বৈশ্বিক ঐতিহ্যের অংশ ইলিশ আহরণে বাংলাদেশ শীর্ষে থাকলেও, এই সম্পদ এখন হুমকির মুখে। সাগরের প্রতিটি স্তরে ইলিশ রক্ষায় সমন্বিত পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।

৪. বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ ও আঞ্চলিক সহযোগিতা

তিনি উল্লেখ করেন যে জলবায়ু পরিবর্তন এবং অবৈধ, অপ্রকাশিত ও অনিয়ন্ত্রিত (IUU) মাছ ধরা একক দেশের পক্ষে মোকাবেলা করা সম্ভব নয়। এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক সহযোগিতা জোরদার করার আহ্বান জানান তিনি।

৫. গবেষকদের তথ্যের ওপর গুরুত্বারোপ

ফরিদা আখতার বলেন, বাংলাদেশে অত্যন্ত দক্ষ গবেষক ও বিজ্ঞানী আছেন। নীতি-নির্ধারণে তাদের গবেষণালব্ধ তথ্যকে প্রাধান্য দিতে হবে। এর মাধ্যমে ইকোসিস্টেম সুরক্ষা, সমুদ্রভিত্তিক পরিকল্পনা এবং জলবায়ু–সহনশীল মৎস্য ব্যবস্থাপনায় গুরুত্ব দেওয়া সম্ভব হবে।

অন্যান্য বক্তা

সম্মেলনে আরও বক্তব্য রাখেন:

  • অধ্যাপক মুহাম্মদ ইয়াহ্ইয়া আখতার (উপাচার্য, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়)

  • ড. পিয়ের ফাইলার (ইউনিভার্সিটি অব পোর্টসমাউথ, ইউকে)

  • ড. আবদুর রউফ (মহাপরিচালক, মৎস্য অধিদপ্তর)

  • ড. মোহাম্মদ শামীম উদ্দিন খান (উপ-উপাচার্য, একাডেমিক, চবি)

  • ড. কামাল উদ্দিন (উপ-উপাচার্য, প্রশাসন, চবি)

  • ড. শেখ আফতাব উদ্দিন আহমেদ (পরিচালক, ইনস্টিটিউট অব মেরিন সায়েন্স, চবি)

প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুনবাংলাদেশ প্রতিদিন

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
ফেসবুকে আমরা...
নামাজের সময়সূচী
জাতীয় সঙ্গীত
©সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ বাংলাদেশ প্রতিদিন সত্যের সন্ধানে সব সময় | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় BDS Digital Marketing Agency